হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত মানব জাতির জন্য দাজ্জালের চেয়ে বড় ফিতনা আর
কিছু নেই। সে এমন অলৌকিক
বিষয় দেখাবে যা দেখে মানুষ
দিশেহারা হয়ে পড়বে। দাজ্জাল নিজেকে প্রভু ও আল্লাহ হিসেবে
দাবী করবে। তার দাবীর পক্ষে এমন কিছু প্রমাণও উপস্থাপন করবে যে সম্পর্কে নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগেই সতর্ক করেছেন।
হাদিসের ভাষ্যে, ‘সে মানুষের কাছে
গিয়ে বলবে, আমি যদি তোমার মৃত পিতা-মাতাকে জীবিত করে দেখাই, তাহলে কি তুমি আমাকে
প্রভু হিসেবে মানবে? সে বলবে অবশ্যই
মানব। এ সুযোগে শয়তান
তার পিতা-মাতার আকৃতি ধরে বলবে, হে সন্তান! তুমি
তার অনুসরণ কর। সে তোমার প্রতিপালক’
(সহিহ জামে আস্-সগীর: ৭৭৫২)।
কিন্তু মুমিন বান্দাগণ এসব দেখে বিভ্রান্ত হবে না। মিথ্যুক দাজ্জালকে সহজেই চিনতে পারবে এবং আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু দুর্বল ঈমানদার লোকেরা বিভ্রান্তিতে পড়ে ঈমান হারা হবে। তার দলে অংশ নেবে।
হাদিসে দাজ্জালের ফেতনার সময় যারা তার অনুসরণ করবে তাদের সম্পর্কে জানানো হয়েছে। হাদিসের বর্ণনামতে, ‘দাজ্জালের অধিকাংশ অনুসারী হবে ইহুদি এবং মহিলা’(মুসনাদে আহমদ)। ‘ইস্পাহানের সত্তর
হাজার ইহুদী দাজ্জালের অনুসরণ করবে। তাদের সবার পরনে থাকবে সেলাই বিহীন চাদর’ (মুসলিম- কিতাবুল ফিতান)।
দাজ্জাল দেখতে কেমন হবে। এর বর্ণনাও দিয়েছেন
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জালকে স্বপ্নে দেখে তার শারীরিক গঠন সম্পর্কে বলেন, দাজ্জাল হবে বৃহদাকার একজন যুবক পুরুষ, শরীরের রং হবে লাল,
বেঁটে, মাথার চুল হবে কোঁকড়া, কপাল হবে উঁচু, বক্ষ হবে প্রশস্ত, চক্ষু হবে টেরা এবং আঙ্গুর ফলের মত উঁচু। দাজ্জাল
নির্বংশ হবে। তার কোন সন্তান থাকবেনা’’। (বুখারী, অধ্যায়,
কিতাবুল ফিতান)
