রমজানের প্রস্তুতি

Abdur Rahman


রমজানের প্রস্তুতির বিষয়ে হাদিসে অনেক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। রমজানকে যথাযথভাবে পালন করতে হলে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


১. আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া

রাসুলুল্লাহ ﷺ রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। তিনি দোয়া করতেন:

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
(উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা'বানা, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান")
(অর্থ: "হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দাও এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দাও")
(মুসনাদ আহমাদ: ২৩৪৬)

অর্থাৎ, রমজান আসার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া সুন্নাহ।


২. রমজানের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলতেন:

"যে ব্যক্তি রমজানের রোজার প্রস্তুতি নিতে শাবান মাসে রোজা রাখে, সে রমজানের জন্য অধিক প্রস্তুত হয়।" (সহিহ মুসলিম: ১১৫৬)

তাই শারীরিকভাবে অভ্যস্ত হতে চাইলে শাবান মাসে কিছু রোজা রাখা ভালো।


৩. নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত বাড়ানো

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি কুরআন থেকে এক অক্ষর পড়ে, সে একটি নেকি পায়, আর প্রতিটি নেকি দশগুণ বৃদ্ধি পায়।" (তিরমিজি: ২৯১০)

রমজানের আগে থেকেই কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে রমজানে তা সহজ হয়।


৪. দান-সদকার অভ্যাস করা

"রাসুলুল্লাহ ﷺ ছিলেন সবচেয়ে দানশীল। রমজানে তাঁর দানশীলতা আরও বেড়ে যেত।" (বুখারি: ৬)*

রমজানে দান-সদকা করার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত।


৫. ইবাদতের পরিকল্পনা করা

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয়, আর শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়।" (সহিহ বুখারি: ১৮৯৯, মুসলিম: ১০৭৯)

এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে আগে থেকে ইবাদতের পরিকল্পনা করা জরুরি।


উপসংহার

রাসুলুল্লাহ ﷺ রমজানের জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতেন—শরীর, মন, আমল, দান-সদকা সবকিছুতেই। তাই আমরাও যেন তাঁর এই সুন্নাহ অনুসরণ করে রমজানের জন্য প্রস্তুত হতে পারি। ইনশাআল্লাহ!