রমজানের প্রস্তুতির বিষয়ে হাদিসে অনেক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। রমজানকে যথাযথভাবে পালন করতে হলে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১. আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া
রাসুলুল্লাহ ﷺ রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। তিনি দোয়া করতেন:
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
(উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা'বানা, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান")
(অর্থ: "হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দাও এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দাও")
(মুসনাদ আহমাদ: ২৩৪৬)
অর্থাৎ, রমজান আসার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া সুন্নাহ।
২. রমজানের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলতেন:
"যে ব্যক্তি রমজানের রোজার প্রস্তুতি নিতে শাবান মাসে রোজা রাখে, সে রমজানের জন্য অধিক প্রস্তুত হয়।" (সহিহ মুসলিম: ১১৫৬)
তাই শারীরিকভাবে অভ্যস্ত হতে চাইলে শাবান মাসে কিছু রোজা রাখা ভালো।
৩. নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত বাড়ানো
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি কুরআন থেকে এক অক্ষর পড়ে, সে একটি নেকি পায়, আর প্রতিটি নেকি দশগুণ বৃদ্ধি পায়।" (তিরমিজি: ২৯১০)
রমজানের আগে থেকেই কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে রমজানে তা সহজ হয়।
৪. দান-সদকার অভ্যাস করা
"রাসুলুল্লাহ ﷺ ছিলেন সবচেয়ে দানশীল। রমজানে তাঁর দানশীলতা আরও বেড়ে যেত।" (বুখারি: ৬)*
রমজানে দান-সদকা করার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত।
৫. ইবাদতের পরিকল্পনা করা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয়, আর শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়।" (সহিহ বুখারি: ১৮৯৯, মুসলিম: ১০৭৯)
এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে আগে থেকে ইবাদতের পরিকল্পনা করা জরুরি।
উপসংহার
রাসুলুল্লাহ ﷺ রমজানের জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতেন—শরীর, মন, আমল, দান-সদকা সবকিছুতেই। তাই আমরাও যেন তাঁর এই সুন্নাহ অনুসরণ করে রমজানের জন্য প্রস্তুত হতে পারি। ইনশাআল্লাহ!

