"রোযা ভঙ্গ হওয়া এবং না হওয়ার কারণসমূহ"

Abdur Rahman

 

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র ও বরকতময় মাস। এই মাসে রোযা রাখা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ ইবাদত। তবে অনেক সময় না জানার কারণে এমন কিছু কাজ করা হয়, যা রোযা ভঙ্গের কারণ হতে পারে, আবার এমন কিছু কাজ এড়িয়ে চলা হয় যা আদতে রোযা ভঙ্গ করে না। তাই হাদিসের আলোকে রোযা ভঙ্গের কারণ ও যেসব কাজ রোযা ভঙ্গ করে না তা জানা অত্যন্ত জরুরি।


যেসব কাজ রোযা ভঙ্গ করে:


১. খাওয়া বা পান করা ইচ্ছাকৃতভাবে:

  • রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে খায় বা পান করে, তার রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।" (বুখারি: ১৯৩৩, মুসলিম: ১১৫৫)

২. প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ গ্রহণ করা:

  • ওলামায়ে কেরাম একমত যে, প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু গ্রহণ করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

৩. বীর্যপাতের উদ্দেশ্যে হস্তমৈথুন বা যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করা:

  • রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন, সে আমার জন্য পানাহার ও তার যৌন বাসনা ত্যাগ করেছে।" (বুখারি: ১৮৯৪)

৪. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা:

  • রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তার রোযা ভেঙ্গে যায়।" (আবু দাউদ: ২৩৮০)

৫. হায়েজ বা নিফাসের অবস্থায় রোযা রাখা:

  • মহিলা যদি রোযার সময় হায়েজ বা নিফাসে পড়ে, তবে তার রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। (বুখারি: ১৯৫০)


যেসব কাজ রোযা ভঙ্গ করে না:


১. ভুলবশত খাওয়া বা পান করা:

  • রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রোযা অবস্থায় ভুলে কিছু খেয়ে ফেলে বা পান করে, সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহ তাকে খাওয়ান ও পান করিয়েছেন।" (বুখারি: ১৯৩৩, মুসলিম: ১১৫৫)

২. মুখের লালা গিলে ফেলা:

  • মুখের লালা গিলে ফেললে রোযা ভঙ্গ হয় না।

৩. অজান্তে ধূলাবালি বা ধোঁয়া প্রবেশ করা:

  • রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "কোনো ব্যক্তি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে ধোঁয়া বা ধুলাবালি গিলে ফেলে, তাহলে তার রোযা ভঙ্গ হবে না।"

৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা:

  • ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন: "সুগন্ধি ব্যবহার রোযা ভঙ্গ করে না।" (আল-মুগনি: ৩/১২৬)

৫. রক্ত নেওয়া বা ইনজেকশন নেওয়া (যাতে পুষ্টি উপাদান না থাকে):

  • ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন।" (বুখারি: ১৯৩৯)

উপসংহার

রোযা রাখার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং তাকওয়া অর্জন করা। তাই রোযার বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, কিছু কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করলে রোযা ভঙ্গ হয়, আবার কিছু কাজ রোযা ভঙ্গ করে না। তাই মুসলমানদের উচিত হাদিসের আলোকে রোযার বিধান জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে রোযা পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।